পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার উপায়-পড়ায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ১০ টি টিপস

ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ায় মনোযোগ না থাকা সব চেয়ে বড় সমস্যা, এই সমস্যার কারনে অনেক ছাত্র ছাত্রী পড়া লেখায় ভাল করতে পারে না। এখন কার সময়ে হচ্ছে প্রতিযোগিতার যুগ। সব ক্ষেত্রে এখন হচ্ছে প্রতিযোদিতা, এবং কি পড়ালেখায় আরো বেশি প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। সবাই চায় লেখা পড়ায় ভা; ফলাফল করতে, সবাই চায় ক্লাসে ফাস্ট হতে। কিন্তু সবাই তা পারে না। সবার একটা নির্দিষ্ট ক্ষমতা থাকে, যা তাঁরা করতে পারে।Poray monojogi houyar 10 tips

কিন্তু সবাই যদি সেই ক্ষমতা টুকু ব্যাবহার করে তাহলে সবাই তাদের জায়গায় থেকে ভাল ফলা ফল করতে পারবে। তাই মনযোগ দিয়ে পড়া লেখা করার গুরুত্ব অনেক। আজকে আমরা আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো কিভাবে পড়া লেখায় মনযোগ বাড়ানো যায়। কিভাবে ভাল ছাত্র হওয়া যায়।

পড়া লেখায় মনোযোগী না হওয়ার কারন

পড়া লেখায় মনযোগী না হওয়ার কারন গুলো আগে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, তাহলেই আমরা আমাদের সমাধান খুঁজে পাব। সমস্যা খুঁজে না পেলে আমরা সেই সমস্যার সমাধান কোন দিনি করতে পারব না। আসুন তাহলে দেখা যাক পড়া লেখায় অমনযোগীর কারন

  • পড়ালেখার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়া।
  • পড়ার প্রতি ভালবাসা না থাকা।
  • পড়ালেখাকে বোঝা মনে করা
  • লেখাপড়ার থেকে অন্য বিষয় গুলো কে বেশি প্রাধান্য দেয়া।
  • নিজের জীবনের কোন লক্ষ্য না থাকা।
  • অপ্রযোজনে সময় নষ্ট করা।
  • খারাপ ও অমনযোগী বন্ধুদের সাথে সময় কাটান ।

এরকম আরো অনেক কারন রয়েছে যে গুলোর জন্যে আমরা লেখা পড়ার প্রতি মনযোগী হতে পারি না। আমাদের অনেক রকম সমস্যা আমরা নিজেরাই দার করিয়ে ফেলি যাতে করে আমাদের মনযোগ নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মনের শক্তি খুবি কম তার কারনেই আমরা মনের উপর যোড় খাটাতে পারি না। পড়া লেখাকে যদি বোঝা মনে করি তাহলে আমরা কোন দিনি লেখা পড়ায় ভাল করতে পারব না।

পড়ায় মনযোগ ফিরিয়ে আনতে ১০টি টিপস

এখনকার সময় ভাল ছাত্র ছাত্রী না হতে পারলে ভাল কোন শিক্ষ্যা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্যে অনুমতি পাওয়া যায় না। তাই ছাত্র ছাত্রীদেরকে পড়া লেখা করে ভাল রেজাল্ট করে ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নিতে হবে। তা হলে ভবিষ্যতে ভাল করার তেমন কোন চান্স নেই। তাই আসুন জেনে নেই পড়ায় মনযোগ ফিরিয়ে আনতে ১০ টি টিপসঃ-

১। পরীক্ষায় পাশের জন্যে নয়, শেখার জন্যে পড়তে হবে

ছাত্র ছাত্রীরা শুধু পরিখায় ভা;ল করার জন্যে পরে থাকে, কিন্তু এই ভাবে পড়লে কোন দিনি পড়া লেখা ভাল হবে না বা পড়ার প্রতি মনযোগ আসবে না। তাই আপনাদেরকে শেখার আগ্রহ থেকে পড়তে হবে। তাহলেই পড়া লেখার প্রতি আগ্রহ বেরে যাবে। পড়া গুলো ভাল করে মনে থাকবে। মনের উপর আর জোর করে মনে রাখা লাগবে না। এভাবে পড়লে আপনাদের পড়া অনেক দিন মনে থাকবে। পরিক্ষার হলে বসে আর মাথা চুলকাতে হবে না। আর সব যদি ঠিক থাকে তাহলে রেজান্ট ও ভাল হবে।

২। পড়ালেখার সময় মনযোগ নষ্ট করতে পারে এমন সব কিছু সরিয়ে ফেলা

পড়ার সময় মনযোগ কি কারনে আপনাদের নষ্ট হয় সেই বিষয় গুলো খুঁজে বের করুন , যেমন আপনি প্রচুর পরিমানে ফেসবুক আসক্ত, সব সময় মনে হয় যে ,একটু দেখে আসি আমাদের নোটিফিকেশনটা, কে যেন এস এম এস দিয়ে রাখছে একটু চেক করে আসি, এই সব লোভ বাদ দেয়া খুবি কষ্টের। আর এই কারনেই লেখাপড়া ক্ষতি হয়। 

একটু দেখতে গিয়ে কখন যে আপনি ফেসবুকের মধ্যে তলিযে যান তা ভুলেই যান। তাই পড়ার সময় এই সব ডিভাস আপনার টেবিল থেকে সরিয়ে ফেলুন। শুধু শুধু ফেসবুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। নিজেকে কন্টোল করতে হবে। মনে করতে হবে পড়ার সময় আমি আর বই ছাড়া দুনিয়াতে আর কিছুই নেই। তাহলেই মনযোগকে ধরে রাখা যাবে বইয়ের মাঝে।

৩। নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা

পড়া লেখার প্রতি মনযোগ ফিরিয়ে আনতে নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা খুবি গুরুত্ব পুর্ন বিষয়। আপনি যদি নাই যানেন যে আপনি লেখা পড়া করে আপনি কি করবেন তাহলে আপনি কখনই লেখা পড়ায় মনযোগী হতে পারবেন না। আপনাকে আপনার মনের সাথে বোঝা পরা করতে হবে যে আপনি বড় হয়ে কি হতে চান।আপনি যদি ঠিক করেন যে আপনি ডাক্টার হবেন তাহলে আপনাকে ডাক্টার হওয়ার জন্যে যে রকম পড়া লেখা করা দরকার তাই করতে হবে।

আমাদের দেশে একটি কথা আছে যে -লক্ষ্য হীন তরী কোন দিন পাড়ে ভীড়তে পারে না। এই কথার মানে হচ্ছে মাঝী যদি নাই যানে যে সে কথায় যাবে তাহলে সে কিভাবে পাড়ে ভীড়বে। তাই প্রতিটা ছাত্র ছাত্রীকে তার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তাহলেই পড়া লেখায় মনযোগী হওয়া যাবে।

৪। নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করা

পুরুস্কার পেতে কার না ভাল লাগে।সবারি উপহার পেতে ভাল লাগে।আমরা কোন ভাল কাজ করার পরে উপহার পেতে পছন্দ করি, তো আমরা আমাদের লক্ষ্য ঠিক করতে পারি,আমরা ঠিক করবো যে একটা বইয়ের ওই পর্যন্ত পরবো,তো ওই বইয়ের ওই পাতায় আমরা যা পছন্দ করি তা রেখে দেবো।এবং একটা সময় সেখানে গিয়ে আমরা তা খাবো,এভাবে আমরা আমাদেরকে পুরস্কিত করতে পারি।

অথবা আমরা যে কাজটি করতে খুবি ভালবাসি তা সব সময় করতে পারিনা,আমরা ঠিক করতে পারি যে যদি অংক পরিক্ষায় ভাল মার্ক পাই তাহলে আমি ওই কাজটি করবো। এভাবেই আমরা নিজেই নিজেকে উৎসাহ দিতে পারি,এবং ভাল মনযোগ ফেরাতে পারি পড়ার মধ্যে।আমরা এই এই কাজটি করার মাধ্যমে ২টি বিদ্দেশ্য হাছিল হবে। আমাদের পড়া লেখা ভাল হবে,এবং আমাদের পছন্দের কাজটিভকরতে পারবো।

Poray monojogi houyar 10 tips

৫।রুটিন মাফিক চলা

সবারি উচিত নিয়ম মাফিক চলা উচিত।নিয়ম ছারা দিন পার করলে কখনই ভাল কিছু করা যায় না। বিশেষ করে ছাত্র দের খেত্রে তা খুবি দরকারি।একজন ছাত্র কখন ঘুম থেকে উঠবে কখন পরতে বসবে বা কখন ঘুমাতে যাবে সব কিছুরি একটা নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।তাহলেই ভালকিছু করা সম্ভব। ডিসিপ্লিন একজন ছাত্রের জন্যে কতটা দরকারি তা একজন নিয়মিত ছাত্রের কাছে জানা যাবে। অল্প পড়া শোনায় অনেক কিছু হয়।তাই প্রত্যেক ছাত্রকে তার নিজিশ্ব নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে

৬।সুস্বাস্থের অধিকারি হওয়া

সুস্বাস্থ সকল সুখের মূল, এই কথাটি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।শরীর যদি ভাল না থাকে তাহলে কন কিছুই ভাল লাগে না।তাই স্বাস্থের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।দর্বল ও রোগা মানুষ কখনই কোন কিছুতে ভাল হতে পারে না। একজন ছাত্রর তার শরীরের প্রতি ভাল নজত রাখতে হবে। কারন রোগা মানুষ তার রোগ নিয়ে সারাক্ষন ভুগতে থাকে।পড়ার পেছনে সময় তার থাকেই না, বা পড়া তার কাছে ভাল লাগে না।

৭। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা

একজন ছাত্রকে সব দিকেই খেয়াল রাখতে হবে। সব রকম বন্ধুদের সাথে মিশলে নিজের জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আসংখা রয়েছে। তাই যারা খারাপ পথে গিয়েছে সে সব বন্ধুদের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে করে তাদের মত হয়ে না যায়। কথায় আছে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। তাই সব সময় চেষ্টা করতে হবে ভাল ছেলেদের সাথে মিশার জন্যে। কারন ভালর সাথে থাকলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৮। ছোট ছোট বিরতি নেয়া

কোন কিছুই খুব বেশি ভাল নয়, তাই সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এক ঘেয়ে হয়ে না যায়। পড়ার ফাকে ফাকে ছোট করে বিরতি নেয়া যাতে পারে, এতে করে আবার নতুন ভাবে শুরু করা যায়। মাইন্ড ফ্রেস হয়ে যায়। মন ভাল থাকে । এবং লেখা পড়ায় মনোযোগ ফিরে আসে। তাই সব সময় বিরতি হীন ভাবে না বসে থেকে মাঝে মাঝে বিরতি দিতে হবে। যাতে করে মনটা ভাল থাকে। মন ভাল থাকলে পড়ায় ভাল করে মন বসে।

৯। কাউকে শেখান

পড়া লেখায় ভাল করার আর একটি ভাল উপায় হচ্ছে কাউকে শেখান। ধরুন আপনি ভাল লিখতে পারেন কিন্তু বলতে গেলেই আপনি আটকে যান। তাই আপনাকে খুব বেশি করে প্রাক্টিস করতে হবে যাতে করে আপনার মাঝে সৃষ্টি হওয়া জড়তা কেটে যায়। আর এই জড়তা কাটানর সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে কাউকে শেখান। কারন অন্যকে শেখানোর সময় আপনার ওই বিষয়টি আরো ভাল করে আয়ত্যে আসে। তাই আপনি যদি আপনার বন্ধু বা অন্য কারো সাথে শেয়ার করেন তাহলে তার থেকে আপনার উপকারই বেশি হবে।

১০। বুঝে পড়া

কোন বিষয় পড়ার সময় তা বুঝে পড়ার চেষ্টা করা, কারন কোন বিষয় যদি আপনি শুধু মুখস্থ করেন তাহলে তা আপনার ব্রেনে খুব বেশি দিন থাকবে না। কিন্তু আপনি যদি কি পরছেন তা বুঝে পরেন তাহলে তা আপনার মাথায় সারা জীবন বা অনেক দিন থাকবে। আপনি যদি কোন জিনিষ বুঝে করেন তাহলে আপনাকে আর ওই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা। তাই যখনই পড়বেন তা বুঝে পড়ার চেষ্টা করবেন।

পড়া মনে থাকার দোয়া

পড়া মনে থাকাকে সৃতি শক্তি বাড়ানো বলে। সৃতি শক্তি আল্লাহতালার এক বিশেষ দান। কিন্তু আমরা সে সৃতি শক্তি বাড়ানোর জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি। কারন আল্লহর কাছে মন থেকে চাইলে সব কিছুই পাওয়া যায়। আসুন তাহলে যেনে সৃতি শক্তি বাড়ানর দোয়া।

رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا

উচ্চারণ : ‘রাব্বি যিদনি ইলমা’

অর্থ : হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।’ (সুরা ত্বহা : আয়াত ১১৪)

শেষ কথা 

প্রিয় পাঠক, আশা করি আমাদের পোষ্টি আপনাদের ভাল লেগেছে। ছাত্র ছাত্রীদের পড়ার প্রতি মনযোগ বাড়ানো খুবি দরকারি। আশা করি উপরক্ত বিষয় গুলো মেনে চললে তাদের উপকার হবে। এরকম আরো পোষ্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন,ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন-

ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট দেখার নিয়ম

নতুন চেক বই তোলার নিয়ম

নাম্বার দিয়ে লোকেশন ট্রাকিং-মুহূর্তেই বের করুন নাম্বার পরিচিতি

বাংলা রোমান্টিক গানের লাইন ক্যাপশন-রোমান্টিক স্ট্যাটাস

বাংলা রোমান্টিক ক্যাপশন ফেসবুকের জন্য- রোমান্টিক এস এম এস ও স্ট্যাটাস

বিরিয়ানি নিয়ে স্ট্যাটাস, ছন্দো ও কবিতা

লোডশেডিং নিয়ে মজার স্ট্যাটাস,ক্যাপশন ও কবিতা

ত্যাগ নিয়ে উক্তি,স্ট্যাটাস ও কবিতা- কিছু কথা

ক্ষুধা নিয়ে স্ট্যাটাস,উক্তি ও কবিতা

Leave a Comment