কোরবানির ইতিহাস ও সঠিক নিয়ম- কোরবানির তাৎপর্য

আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারি তাদের কাছে বছরের দুটি দিন খুবি খুশির ও আনন্দের ও গুরুত্বের।মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া খুশির দুটি দিন। ঈদুল আযহা শব্দের অর্থ হচ্ছে ত্যাগের উৎসব,এই উৎসবের মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের পশুর সাথে কোরবানি করে থাকে তার ভিতরে থাকা খারাপ সত্তাকে, তার হিংসা,বিদ্বেশ সহ নানা রকম খারাপ দিক। korbanir itihas o shothik niyom-korbanir tatporzo

আমরা সবাই কোরবানির ইতিহাস কম বেশি জানি। আমরা একটি বছর অপেক্ষা করে থাকি এই একটি দিনের জন্যে। আমাদের ঘরে ঘরে খুশির বন্যা বয়ে যায়। সারা পৃথির সকল মুসলমান নর নারি সবাই মিক্লে মিশেই এই আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।সবাই সেদিন সবার খোজ খবর নিয়ে থাকেন। গরিব দুঃখী সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে থাকেন, সবাই সবার সাথে বুকে বুকে মিলিয়ে কুলাকুলি করে থাকেন।

ভুলে যায় সব রাগ ও বিদ্বেষ, সব মুসলমান যেমন ভাই ভাই তা একদম ফুটে উঠে। আমাদের ঈদুল আযহার আরো একটি বড় দিক হলো এই ঈদে পালন হয়ে থাকে হজ্ব এর মতো বড় এবাদাত। যাকিনা ইসলাম ধর্মের মূল স্তম্ভো গুলোর একটি। তাই এই ঈদকে বড় ঈদ বলেও অনেকে জেনে থাকেন। 

কোরবানির ইতিহাস

কোরবানি আমাদের মুসলমানদের অনেক বড় এবং অনেক প্রাচিন একটি ধর্মিয় অনুষ্ঠান। এই দিনটি আরবি মাস জিলহজ্জ্ব মাসে ১০ তম দিনে পালন হয়ে থাকে। এই রিতিটি আমাদের নবী হাযরাত ইব্রাহিম (আঃ) এর সময় থেকে শুরু হয়েছে। কিন্তু মূলত কোরবানি আমাদের আদি পিতা নবী হাযরাত আদাম (আঃ) এর সময় থেকেই ছিলো। তখন আদম (আঃ) এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের ঝড়ার সমাধান আল্লাহ্‌ পাক তাদের কোরবানির মাধ্যমে দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার কোরবানির ধরন ছিলো আলাদা। তখন তাদের কোরবানি ছিলো তাদের চাষ করি ফসল ও স্বব্জির মাধ্যমে।

তারপরে যতো নবী রাসুল দুনিয়াতে এসেছেন তাদের সবার বেলাতেই কোরবানি ছিল। শুধু ধরন ছিলো আলাদা। (সুরা হজ্জ আয়াত ২২/৩৪)। সবশেষে কেয়ামত পর্যন্ত সকল জাতি ও ভুখণ্ডের জন্য একই বিধান চলমান রয়েছে। যা বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত শরীয়ত অর্থাৎ কুরআন সুন্নাহর বিধান।

আমরা এখন যে ভাবে কোরবানি করে থাকি তা আমরা পেয়েছি আমাদের পিতা হাযরাত ইবব্রাহিম আঃ এর মাধ্যমে। আল্লাহ্‌ পাক তাকে অনেক রকম পরিক্ষার মধ্যে ফেলেছেন।কোরবানিও ছিল তার জন্যে তেমনই একটি পরিক্ষা। হাযরাত ইব্রাহিম আঃ একদিন স্বপ্নে দেখলেন যে আল্লাহতালা তাকে তার প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে বলেছেন,এক পর্যায়ে তিনি তার সন্তানকে কোরবানি করার জন্যে মানসিক প্রস্তুতি নেন। এবং তার সন্তান হাযরাত ইসমাইল আঃ এর সম্মতিতে তারা একটি নির্জন স্থানে গমন করেন।

এবং শিশু হাযরাত ইসমাইল আঃ কে চোখ ও হাত বেধে মাটিতে শুইয়ে দেন, এমত অবস্থা নবী হাযরাত ইব্রাহিম আঃ যখন ছুরি চালাতে যাবেন এমন সময় আল্লাহ্‌ তালা পিতা পুত্রের এই নির্দেশ পালনে খুশি হয়ে শিশু ইসমাইলের স্থানে একটি পশু রেখে দেন। এবং তা কোরবানি হয়ে যায়। এখান থেকেই আমরা এই কোরবানি পেয়েছি। যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহতালার সন্তুষ্টি অর্জন করে থাকি। এবং কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই কোরবানি হবে ।

korbanir itihas

কোরবানি করার সঠিক নিয়ম

কোরবানি আমাদের জন্যে একটি ওয়াজিব ইবাদত, তাই এই কোরবানি করতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে। তা না হলে আমাদের কোরবানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা সব সময় কোরবানির নিয়ম কানুনের উপর নজর রাখবো। আসুন তাহলে যেনে নেয়া যা কোরবানির কিছু নিয়ম কানুনঃ

  • পশু বাছাই,কোরবানির প্রথম কাজ হচ্ছে পশু বাছাই করা, কোরবানির পশু হতে হবে সুস্থ ও সবল। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমাদের পশু সব রকম ত্রুটি মুক্ত হয়।
  • পশুর বয়স যেন নির্ধারিত বয়সের থেকে কম না থাকে। উট বা গরুর জন্যে ২ বছর ,ছাগল বা ভেড়ার জন্যে ১ বছর হতে হবে।
  • জবেহ করার আগে ছুড়ি বা চাকু ভালো করে ধার করে নিতে হবে, যাতে করে পশুর কষ্ট কম হয়,।
  • পশুকে জবেহ করার পুর্বে তাকে ভাল করে পানি খাওয়াতে হবে, পশুকে পিপাসিত রাখা যাবে না।
  • পশুকে শোয়ানোর জন্যে টানা ছেচড়া করা যাবে না। 
  • পশুকে শোয়ানের সময় কিবলা দিকে মুখ করে শোয়াতে হবে।

এছাড়া আরো অনেক রকম নিয়ম রয়েছে, আমরা কোরবানি দেয়ার আগে সেই সব নিয়ম গুলো ভালো করে যেনে নেব। যেহেতু এটা একটা বড় ইবাদত, তাই আমাদের খুবি যত্নের সাথে কোরবানি করতে হবে। ছোট কোন ভুলের কারনে যেন আমাদের এই ইবাদত যেন নষ্ট না হয়ে যায়।

কোরবানির তাৎপর্য 

কোরবানির অনেক গভীর শিক্ষা রয়েছে, আযহা শব্দের অর্থ হচ্ছে ত্যাগ,আমরা ঈদুল আযহার মাধ্যমে আমরা আমাদের ত্যাগের একটি নজির রয়েছে। আমরা পশু কোরবানি করি মহান আল্লাহর উদ্দ্যেশে। কিন্তু আল্লাহ্‌ তালা সেই পশুর কিছুই গ্রহন করেন না। তিনি দেখেন শুধু আমাদের নিয়ত। তাই আমাদের খালেছ নিয়তে কোরবানি করতে হবে।

কোরবানি করার পর সেই গোসত আমরা বিলিয়ে দেই গরিব মানুষ,আত্মিয় স্বজনদের মধ্যে। এর মাধ্যমে আমদের স্বজনদের সাথে সম্পর্ক মজবুত হয়। প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক ভাল হয়। অনেক গরিব মানুষ রয়েছে যারা অন্য সময় গোসত দিয়ে খেতে পারে না ,কিন্তু এই কোরবানির ঈদের মধ্যে সকল ধনি গরিব একই কাতারে এসে দাঁড়ান। সবাই সবার খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, আশা করি আমাদের এই পোষ্টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আসছে কোরবানির ঈদ, আমাদের যাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে তারা সবাই কোরবানি করবো। গরিব দুখীদের সাধ্য মতো দেখাশোনা করবো। পরবর্তি পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন-

টাকা কামানোর সহজ উপায়

পিছু টান নিয়ে উক্তি,স্ট্যাটাস ও কবিতা

রোদেলা দুপুর নিয়ে ক্যাপশন,স্ট্যাটাস ও কবিতা

মেয়েদের রাগ নিয়ে উক্তি,স্ট্যাটাস ও কবিতা

হাঁটা নিয়ে স্ট্যাটাস,উক্তি ও কবিতা

অলসতা নিয়ে স্ট্যাটাস,উক্তি ও কবিতা

জেলে নিয়ে উক্তি,ক্যাপশন ও কবিতা

মানসিক চাপ নিয়ে উক্তি , স্ট্যাটাস

Leave a Comment