চিয়া সীড কি,খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

মধ্যো আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে চিয়া নামে এক ধরনের গাছ জন্মায়। পুদিনা পরিবারের ছোট এই গাছটির বীজ হচ্ছে চিয়া সিড। সাদা, কালো ও বাদামি রঙের চিয়া সিডগুলো আকারে খুবই ছোট, অনেকটা তিলের মতো। পানিতে ভেজালে চিয়া সিড ফুলে উঠে ১২ গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে। chiya seed ki, khauyar niyom O upokarita

আমাদের দেশে চিয়া সীড বহু আগে থেকে পানীয় হিসেবে ব্যাবহার হয়ে আসছে।কিন্তু ইদানিং মানুষ জনের মধ্যে স্বাথ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে এর ব্যাবহারও বেড়ে গেছে। শরীর ভাল রাখতে এবং শরীরের পুষ্টিগুন ঠিক রাখতে চিয়া সীডের ভূমিকা অপরসীম।

চিয়া সীড সাধারণত সব বয়সী মানুষই খেতে পারে,এই খাবারটা আমাদের শরীরকে করে তুলে চাঙংগা,এবং সকল প্রকার পুষ্টি ঘাটতি পুরন করে থাকে।যাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি তারা এটাকে খুব ভাল করে চিনে থাকেন।কারন বাড়তি ওজন কমাতে চিয়া সীডের কাজ দারুন।

চিয়া সীড খাওয়ার নিয়ম

আসুন এখন আমরা জেনে নেই চিয়া সীড খাওয়ার নিয়ম জেনে নেই।কারন খাবার যতো ভাল ও পুষ্টিগুন সম্পুর্নই হক না কেন তা যদি সঠিক নিয়মে খাওয়া না হয় তাহলে সে খাবারে তেমন কনো কাজে আসে না।তাই অবশ্যই আমাদেরকে খাবারের সঠিক নিয়ম জানতে হবে।

চিয়া সিড স্বাদ ও গন্ধবিহীন একটি খাবার। এটা খাওয়ার জন্য রান্না করারও দরকার হয় না। পানিতে ভিজিয়ে সহজেই খাওয়া যায় চিয়া সিড। চাইলে ওটস, পুডিং, জুস, স্মুথি ইত্যাদির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে নেয়া যায়। এ ছাড়া কেউ চাইলে টকদই, সিরিয়াল, রান্না করা সবজি বা সালাদের ওপরে ছড়িয়েও খেতে পারেন।

চিয়া সিড কুসুম গরম পানিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে চিয়া সিডসহ পানীয়টি পান করুন।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকার জুশের সাথে মিশিয়েও এই খাবার টি খেতে পারেন,এতে করে জুসের পুষ্টিগুন বেড়ে যাবে কয়েক গুন।এবং খাবারের মানও ঠিক থাকবে,আর আপনি পাবেন অনেক বেশি এনার্জি। 

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা চিয়া সিডকে পুষ্টিমানে সমৃদ্ধ একটি খাদ্যবীজ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো, যা বর্তমান বিশ্ব এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কর্তৃক সমর্থিতও বটে।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি আউন্স (২ টেবিল চামচ) চিয়া সিডে রয়েছে ৫ গ্রাম ALA, দৈনন্দিন চাহিদার ১৪% ক্যালসিয়াম, ১২% আয়রন, ২৩% ম্যাগনেসিয়াম, ২০% ফসফরাস, ১২% জিংকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। এজন্য পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন অন্তত ১ আউন্স করে চিয়া সিড সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

চিয়া সিড পুষ্টিকর খাবার। এতে আছে দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালংশাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন, কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন, স্যামন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩।

গর্ভবতী মায়েদের সীড খাওয়ার নিয়ম

গর্ভবতী মায়েদেরকে সব রকম খাবার খাওয়ানো ঠিক নয়, তাদের কে কন খাবার খাওয়ানোর আগে আমাদেরকে অবশ্যই ওই খাবার সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ ধারনা থাকতে হবে,তাই আজকে আমরা জানবো যে চিয়া সীড গর্ভবতী মায়েদের জন্যে কতটা ভালো।  

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় চিয়া বা সিয়া বীজগুলি সেবন করা নিরাপদ, আর এগুলি প্রকৃতপক্ষে একটি সুস্থ প্রসব হওয়ার সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করে তুলতে পারে।প্রায় 100 গ্রাম মত চিয়া বীজ মোটামুটি প্রায় 20 গ্রাম মত প্রোটিন সরবরাহ করে।বড় 1 চামচ চিয়া বীজ সেবন করলে তা থেকে আপনি 3 গ্রাম মত প্রোটিন পেতে পারেন।এছাড়াও চিয়া বীজের মধ্যে রয়েছে আয়রণ এবং ক্যালসিয়াম– এই উভয় খনিজই একটি সুস্থ এবং স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থার জন্য অপরিহার্য।

চিয়া বীজ নিঃসদন্দেহে স্বাস্থ্যকর এবং আমাদের প্রতিদিনের ডায়েট তথা খাদ্য তালিকায় একটি দুর্দান্ত অতিরিক্ত সংযোজন গড়ে তোলে।কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সেগুলি কি উপকারিতা নিয়ে আসে? খুঁজে বের করুন! আমরা নিশ্চিত যে চিয়া বীজের উপকারিতাগুলি একবার পড়ার পর, আপনিও সেগুলিকে আপনার গর্ভাবস্থাকালীন ডায়েটে আরও বেশি এবং প্রায়শই অন্তর্ভূক্ত করবেন।

বাড়তি ওজন কমাতে চিয়া সীডের ব্যাবহার

একজন মানুষের জন্যে বাড়তি ওজন কখনই ভাল না,তাই আমাদের কে আমাদের ওজনের দিকে খেয়ার রাখতে হবে।শরীরের ওজন বেড়ে গেলে শরীরের মধ্যে অনেক প্রকার রোগ ব্যাধি দেখা যায়,তাই আমাদের ওজনকে স্বাভাবিক রাখতে হবে।আমরা ওজন কমানোর জন্যে অনেক রকম ডায়েট প্লান করে থাকি।

তবে আমাদের ডায়েট যদি ঠিক ভাবে না হয় তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি হবে,ডায়ের জন্যে আমাদের এমন খাবার বেছে নিতে হবে যে ,যে সকল খাবারে ভাল পুষ্টি রয়েছে,কিন্তু খারাব কনো রকম ফ্যাট নেই এমন খাবার,ডায়েট মানে আমরা মনে করি যে কন রকম খাবার খাওয়া যাবে না,কিন্তু না। আমাদের ধারনা টি ভুল।ডায়েট মানে হলো নীয়মিত ভাবে ভাল খবার গুলো বেছে বেছে খাওয়া।

ডায়েটে সব ধরেনের খাবার খাউয়া যাবে না।ডায়েটে যে সকল খাবার খাওয়া যায় এবং খাওয়া ভালো তার মধ্যে চিয়া সীড হলো অন্যতম।চিয়া সীড ছাড়া ডায়েট কল্পনাই করা যায় না,আসুন আমরা যেনে নেই ডায়েটে চিয়া সীড কিভাবে খেতে হবে।

ওজন কমাতে চিয়া সীড কে আমাদেরকে খাবারের আগে ২-৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে,প্রথমে একটি গ্লাসে পানি নিব,তারপর তাতে ২ চামচ চিয়া সীড এবং ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে সকালে পান করতে হবে,এবং সকল প্রকার ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।তাহলেই শরীরের বাড়তি ওজন অতি দ্রুতো কমে যাবে।আর যদি কম ওজন কমাতে চাই তাহলে ১ গ্লাস পানতে ১ চামচ চিয়া সীড এবং ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেতে হবে।

তাহলেই আমরা আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফল পাবো।আর যদি আমরা নিয়ম মাফিক না চলি ও খাবার না খাই তাহলে আমাদের প্রত্যাশিত ওজন কমবে না।এবং নীয়মিত হিট এক্সসার সাইস করতে হবে।শুধু চিয়া সীড মেশানো পানি খেলেই যে ওজন কমবে তা কিন্তু নয়,এর পাশা পাশি আমাদের অন্য সব নিয়ম মেনে চলতে হবে,আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, আশা করি পোষ্টি আপনাদের ভালো লেগেছে। পোষ্টি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলেই আমরা আনন্দিত। আমদের পরবর্তি পোষ্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। এবং আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্টে যানাতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন-

আলু দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি

পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

সৌদি আরবের ভিসা চেক করার নিয়ম

কাতারের ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৩

কি ভাবে এয়ারটেলে এমবি দেখে

সরকারি ভাবে রোমানিয়া যাওয়ার উপায়

Leave a Comment