বাংলাদেশের বর্তমান রিজার্ভ কত ২০২৩

বাংলাদেশের মানুষ এখন যে বিষয় নিয়ে সব থেকে বেশি চিন্তিত তা হচ্ছে বাংলাদের রিজার্ভ। আমরা সবাই জানি যে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভ আসংখাজনক হারে কমে গেছে। যা এখন আমাদের দেশের সাধারণ জনগনের জন্যে চিন্তার কারন। আমাদের দেশের সাধারণ জনগন রিজার্ভ সম্পর্কে খুব একটা জানে না। কিন্তু তাঁরা এটা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে যে দেশের আর্থিক অবস্থা এখন খুবি খারাপ। Bangladesher botoman Reserve koto

অনতি বিলম্বে যদি এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয় তাহলে আমাদের দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের উপর খুব খারাপ ভাবে প্রভাব পরবে। যা আমাদের জন্যে খুবি খারাপ একটা অবস্থা সৃষ্টি করবে। প্রিয় পাঠক আসুন আমরা জেনে নেই বাংলাদের রিজার্ভ নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নেই যা আমাদের জন্যে খুবি জরুরী।  

বর্তমানে বাংলাদের রিজার্ভের পরিমাণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার। এটি গত বছরের একই দিনে ছিল ৩৪.৬৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে রিজার্ভ কমেছে ১১.০৭ বিলিয়ন ডলার। আর এই ভাবে যদি রিজার্ভ কমতে থাকে তাহলে আমাদের দেশ খুবি খারাপ অবস্থার মধ্যে পতিত হবে।

রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারন

রিজার্ভ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস। ২০২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৫ কোটি ডলার। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কম আশার প্রধান কারন হচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ত্য।

এই সব অবৈধ ব্যবসায়ীদের কারনে আমাদের দেশে রেমিট্যান্স অনেক কম আসে। এই সব ব্যবসায়ীরা আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের লোভ দেখিয়ে তাদের টাকা অবৈধ ভাবে দেশে আনেন। যে খানে দেশের কোন লাভ থাকে না। আর এ ভাবেই দেশ রেমিট্যান্স থেকে বঞ্ছিত হয়ে থাকে। তাই এইসব ব্যাপারে আমাদের খুবি সচেতন থাকতে হবে।

je vabe barano jabe desher Reserve

বাংলাদের রিজার্ভ সমস্যার সমাধানের উপায়

রিজার্ভ কমে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি ব্যয় কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে আগামীতে রিজার্ভ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ সমস্যার সমাধানের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • রপ্তানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য রপ্তানিমুখী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে হবে।
  • বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিবিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি হলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকে সহজতর করতে হবে।
  • ঋণ পরিশোধবাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ অনেক। ঋণ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। তাই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
  • অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিঅভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি হলে আমদানির চাহিদা কমবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
  • অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলিও গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ:** বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করা যেতে পারে।
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা:** বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশের রিজার্ভ সমস্যার সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনায় উপরোক্ত পদক্ষেপগুলির পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপগুলিও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। প্রিয় পাঠক, আশা করি আমাদের এই পোষ্টি আপনাদের ভালো লাগবে। এই মাধ্যমে আমরা আপনাদের মাঝে দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের পোষ্ট যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন-

পানি পান করার সঠিক নিয়ম- আসুন নিয়ম মেনে পানি পান

যুক্তি দিয়ে কথা বলার উপায়- কথার মাধ্যমে মন জয় করার উপায়

ভালো ছাত্র হওয়ার উপায়- যা ১০০ ভাগ কার্যকরী

খরচ কমানোর উপায়- জেনে নিন খরচ কমানোর সেরা ১০ উপায়

শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম- যা জানা আমাদের দরকার

মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার কিছু দুর্দান্ত উপায়

জীবনে সফল হওয়ার উপায়

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়

রাগ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়- রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ১০ টি সেরা উপায়

Leave a Comment